বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না – দৈনিক আজাদী

চট্টগ্রামে ২৪ জানুয়ারির গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নকশা ছিল ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। তৎকালীন স্বৈরশাসক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য এ গণহত্যা চালিয়েছিল। মির্জা রকিবুল হুদা সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। স্বৈরশাসক জিয়া রকিবুল হুদাকে সিএমপির কমিশনার নিযুক্ত করেছিলেন। তাই খুনী রকিবুল হুদা মেজর জিয়ার সৃষ্টি এবং তিনি এদেশে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন করেছিলেন। তারই সৃষ্টি বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী জামাতকে নিয়ে এদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার নীলনক্সা বাস্তবায়ন করেছিল। তাদের মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ ভূঁইফোড় সংগঠন নয়, রাস্তার টোকাইদের নিয়ে এ দল গঠিত হয়নি। আওয়ামী লীগ আমজনতার সংগঠন। বিএনপি ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নিয়েছে। জামাত ৭১ এর পরাজিত শক্তি। এই দুই অপশক্তির কোনো ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবসের ৩৫তম বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, আজ থেকে ৩৫ বছর আগে এই দিনে চট্টগ্রাম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে। ঐ দিন শেখ হাসিনাকে হত্যা অপচেষ্টায় তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের প্রত্যক্ষ ইন্দনে সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় এবং ঐ দিনই সামরিক স্বৈরসরকারের বিদায় ঘণ্টা চট্টগ্রাম থেকে বেজে উঠেছিল। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, যদি কোনো দলে একটি মাত্র সিংহ থাকে তাহলে তার বিজয় সুনিশ্চিত। আওয়ামী লীগের দলে আছে একজন সিংহ। তিনি শেখ হাসিনা। তাই আওয়ামী লীগকে কেউ ধাক্কা দিতে পারবে না, বিজয় রুখতে পারবে না।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ইতিহাসের পাঠ কেউ গ্রহণ করেন নাএটাই ইতিহাসের শিক্ষা। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন তা কোনদিন সফল হবে না। এদেশে মীরজাফররা কখনো টিকতে পারেনি। মীরজাফররা বার বার ইতিহাসের আস্থাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন যারা খল নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তারাও একদিন মুছে যাবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, উপদেষ্টা সফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, জোবাইরা নার্গিস খান, আব্দুল আহাদ, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, পেয়ার মোহাম্মদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মো. জাবেদ, . নেছার উদ্দীন মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ। এছাড়া ১৫টি থানা ৪৪ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন এবং সভা শেষে চট্টগ্রাম গণহত্যা শহীদ স্মারক বেধিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন নেতাকর্মীরা।

Explore More Districts