প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর নগর চাই : চসিক মেয়র

source_logo
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on whatsapp

প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দের নগর গড়ার প্রত্যয় করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো.রেজাউল করিম চৌধুরী।আজ মঙ্গলবার চসিক কার্যালয়ে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমম্বিত উদ্যোগ ও নাগরিক সচেতনতা স্মার্ট সিটি গড়ার পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারী সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়, নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ে। ফলে  সংস্থাগুলোর উপর মানুষের মনে বিরূপ ভাব, আস্থার সংকট ও অসহযোগিতার মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

Advertisement

১০০দিনের প্যাচ ওয়ার্ক সফল হয়েছে মন্তব্য করে মেয়র রেজাউল করিম বলেন, মশা নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বেহাল সড়কগুলোর সংস্কার এবং আলোকায়নসহ চসিকের সেবামূলক পরিধিতে গতিশীলতা আনয়ন এবং আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই ও উপায় অন্বেষণ করেছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আবর্জনা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে অনেকটা গতিশীলতা এসেছে। নগরের ৩০টি রাস্তার ৭৬ কিলোমিটার অংশে পোল বসিয়ে এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছে। আমরা ফুটপাত সহ, খাল, নালার উপর থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। দখলদাররা নিজ দায়িত্বে অবৈধ ভাবে স্থাপিত দোকানপাট, স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আমরা সেসব স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছি। জনস্বার্থ রক্ষায় আমরা কাউকে বিন্দু পরিমান ছাড় দেওয়া হবে না।
চসিকের অনেক প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবায় কাজের মান ও গতি কাঙ্খিত পর্যায়ে হয় না । সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণ বিভাগসহ সরকারী সেবা সংস্থাসমূহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমম্বয়ের অপর্যাপ্ততা ও নাগরিক সচেতনতার ব্যাপক ঘাটতি।

তিনি আরও বলেন, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা ও জলামগ্নতা চট্টগ্রামের দীর্ঘ দিনের সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার সাথে চট্টগ্রামের মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন, মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। বাজেটে নিজস্ব উৎসে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫২ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও চসিকের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে আয়বর্ধক প্রকল্পসমূহকে আরো জোরদার ও নতুন নতুন প্রকল্প সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগুচ্ছি আমরা। সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর কাছ থেকে কর নিয়েই নগরসেবার কাজ চালায়। এই নির্দিষ্ট আয় দিয়ে সেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই স্বনির্ভর হতে হবে।
মেয়র রেজাউল করিম বলেন, বাজেট অধিবেশনে আমরা ২০২০—২১ অর্থবছরের ১ হাজার ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করি। এ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ২ হাজার ৪৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৪১ শতাংশ। তাই এবারের বাজেট বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। প্রস্তাবিত বাজেটে তিন ধরনের কর বাবদ মোট আয় ধরা হয়েছে ৫৩৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর খাতে সর্বোচ্চ ২১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। হাল কর ও অভিকর খাতে ১৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং অন্যান্য কর বাবদ ১৩২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটের ৮৩৪ কোটি টাকা যাবে বকেয়া দেনা পরিশোধে। উন্নয়ন খাতে ব্যয় হবে ৮৮২ কোটি টাকা। আর বেতন—ভাতা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪০ কোটি টাকা। বাড়ীর মালিকদের সময়মত গৃহকর দিয়ে সহযোহিতার আহ্বান জানাই। অটোমেশনের মাধ্যমে নাগরিকরা যাতে ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে কর দিতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা চালু করব। নগরীকে পরিবেশগত, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চাই আমরা।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা না থাকলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় না থাকলে মানসম্মত কাজও সম্ভব হয় না। নগরীর উন্নয়নে ঠিকাদারের আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
সবশেষে বলতে চাই, আসুন সকলেই নিজের শহরকে সুরক্ষিত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সচেতননতার সাথে নিজেদের সহযোগি হই। সিটি কর্পোরেশনের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়াই। আসুন, সকলে মিলে প্রজন্মের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময়, স্বস্থির চট্টগ্রাম মহানগর গড়ে তুলি।

“জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিধি নিষেধ ও কঠোর লকডাউন জারি করেছে। তাই করোনার দ্বিতীয় দফার আক্রমনের শুরুতেই আমরা সংক্রমিতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ৫০ বেডের আইসোলেশন সেন্টার খুলেছি। নগরীর লালদিঘী পাড়ের চসিক পাবলিক লাইব্রেরিতে খোলা আইসোলেশন সেন্টারটির
৩৫টি শয্যায় পুরুষ এবং ১৫টি শয্যায় নারীর রোগীর ২৪ ঘণ্টা সুচিকিৎসা দিতে সক্ষম হয়েছি বলেও জানানি তিনি।”

এমকে

Advertisement

Explore More Districts