দাম নেই,ক্রেতাও নেই

source_logo
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on whatsapp

মৌসুমের শুরু থেকেই গতবছরের তুলনায় বাজারে কমদামে বিক্রি হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা আম।বাজারে আসার ৭ দিন পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩ দিনের সীমিত লকডাউন ঘোষণার পর হাড়িভাঙ্গার বাজারে নেমে আসে অস্বস্তি।এরপর কঠোর লকডাউনে হাড়িভাঙ্গার বাজার হয়ে পড়ে ক্রেতাশূন্য।

মঙ্গলবার হাড়িভাঙ্গার রাজ্য মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ হাটে দেখা গেছে,আমের মৌসুমে মানুষের উপচে পড়া ভীড় থাকলেও বাহিরের ব্যবসায়ীরা না আসায় এ বছর হাটেও তেমন ভীড় নেই।বাজারজুড়ে চাষী ও বাগানমালিকরা হাড়িভাঙ্গার পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও তেমন কোন ক্রেতা নেই।স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী আম কিনলেও আমের দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক বা আরো কম।মৌসুমের এইসময় বাগানে প্রচুর আম পেকে গেলেও ক্রেতা না থাকায় আম বিক্রিই করা দুষ্কর হয়ে গেছে।বাজারে আম নিয়ে আসলে তা বিক্রি হচ্ছে পানির দামে।
পদাগঞ্জ এলাকার বাগানগুলোতে আম পেকে নীচে খসে পড়ে যাচ্ছে।ক্রেতা না থাকা ও আমের দাম না পাওয়ায় হতাশায় আমচাষী বাগানমালিকরা।

বদরগঞ্জ থেকে এই বাজারে আম বিক্রি করতে নিয়ে আসা আমচাষী আশরাফুল ইসলাম জানান,লকডাউনে এমনিতেই আম বিক্রি হচ্ছেনা তার উপর আবার আমের যে দাম তাতে খরচ তোলাই মুশকিল।বাজারে আম নিয়ে এসে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও বেচা হয়না বলেও জানান তিনি।

আরেক চাষী আতিয়ার রহমান বলেন,এবছর আমের যে দাম তাতে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।লাভের আশা তো নাই আম উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটা তোলা নিয়েও দুশ্চিন্তায় তিনি।সরকারের কাছে ক্ষতিপূরনের জন্য দাবিও জানান তিনি।

অনলাইন উদ্যোক্তা সাজেদুর রহমান রেদওয়ান জানান,মৌসুমের শুরুতে অনলাইনে ভালো অর্ডার পেলেও এখন খুব একটা অর্ডার আসছেনা।

লকডাউনের আগে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো আম সরবরাহ করতে হিমশিম খেলেও এখন আম পাঠানো ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সজিব নামের একজন স্টাফ জানান,লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ক্যারেট আম সরবরাহ করা হলে এখন প্রায় ৬০ ভাগই কমে গেছে।লোকজন কুরিয়ার সার্ভিস পর্যন্ত না আসতে পারায় অনলাইনে অর্ডার কমে গেছেও বলে জানান তিনি।

কৃষি বিপনন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,আমরা হাড়িভাঙ্গার বিপননের জন্য সদাই নামের একটি এপস চালু করেছি।তাছাড়া আম পরিবহনের গাড়ীগুলো যেন কোনরকম হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য স্টিকার ও প্রত্যয়নপত্র দেয়া হচ্ছে।এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের প্রণোদনার জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানোর কথাও বলেন এই কর্মকর্তা।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts